বর্ষ: 2026, সংখ্যা: 5
রবিউস সানি, জুমাদাল উলা, জুমাদাল আখিরাহ - ১৪৪৮ | সেপ্টেম্বর, অক্টোবর, নভেম্বর - ২০২৬
নামাজের ফতোয়া ও মাসায়িল
ওমর ফারুক
ঝালকাঠি
󠆯 মুখে জড়তার কারণে قل هو এর স্থানে كل هوপড়লে নামাজ হবে কি?
১৬২ প্রশ্ন: আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেব ক্বিরাতে قل هو এর স্থানে كل هو পড়ে, আমি তাকে এই সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, আমি ক্বাফ উচ্চারণ করতে পারিনা। এখন আমার জানার বিষয় হল, তার পিছনে কি মহল্লাবাসীর নামাজ সহিহ হবে?
উত্তর: ইসলামি শরিয়ামতে, মুখে সমস্যার কারণে ক্বেরাতে ভুল করলে নামাজ নষ্ট হয় না।
সুতরাং প্রশ্নোক্ত সুরতে, আপনাদের মসজিদের ইমাম সাহেব যেহেতু মুখে সমস্যার কারণে قل هو পড়তে পারে না, তাই তার পিছনে মুসল্লিদের নামাজ সহিহ হয়ে যাবে। তবে ইমাম নির্ধারণের সময় বিশুদ্ধ তেলাওয়াতে সক্ষম ব্যক্তিকেই নির্ধারিত করা উচিত ।
الفتاوى التاتارخانية 2/786
ولو قرأ كل هو الله أحد ولم يكن بلسانه علة تفسد صلاته، ولو قرأ تل هو الله أحد بالتاء تفسد،
-ফতোয়ায়ে শামী ২/৪৭১; ফতোয়ায়ে তাতারখানিয়া ২/৭৮৬; ইমদাদুল ফতোয়া ২/১৭৮;
আফনান শহীদ
শরীয়তপুর
󠆯 সেজদার আয়াত এক স্থানে একাধিকবার পাঠ করলেও একটি সেজদাহ ওয়াজিব হয়।
১৬৩ প্রশ্ন: আজকে কোরআন তরজমা দরসে সেজদার আয়াতের তরজমা পড়া ছিল। হুজুর যখন দরসে ছাত্রদের থেকে ঐ সবক শুনছিলেন, তখন তিনজন ছাত্র ঐ আয়াত শুনায়, এখন প্রশ্ন হলো দরসে উপস্থিত ছাত্রদের উপর কয়টি সেজদা ওয়াজিব হয়েছে?
উত্তর: ইসলামী শরীয়তে যদি কোন ব্যক্তি একটি সেজদার আয়াত এক মজলিসে একবার বা একাধিকবার পড়ে বা শ্রবণ করে তাহলে তার উপর একটি সেজদা ওয়াজিব হয়। চাই তেলাওয়াতকারী একজন হোক বা একাধিক হোক।
অতএব উল্লেখিত সুরতে দরসে প্রথম ছাত্রের সিজদার আয়াত শোনার দ্বারা যারা শুনেছে তাদের সকলের উপর একটি সেজদা ওয়াজিব হয়েছে। এরপর একই আয়াত একই মজলিসে থাকা অবস্থায় পড়া বা শ্রবণ করার দ্বারা আর কোন সেজদা ওয়াজিব হয়নি।
مختارات النوازل" للمرغنانى صـ147
ولا يتكر الواجب بتكرر التلاوة أو السماع فى مجلس واحد ويكفيه سجدة واحدة سواء سجدها بعدما قرأها
مرة أو أخرها عن الكل؛ لان مبتاها عن التداخل دفعا للحرج، وهو التداخل فى السبب دون الحكم ،
-হেদায়া ১/২৫৯; ফাতহুল কাদির ২/২১; বাদায়েউস সানায়ে ৮/৫৫৮; তাবয়িনুল হাকায়েক ১/৫০৩; রদ্দুল মুহতার২/৬১৩; ফাতাওয়ায়ে রহিমিয়া ৫/২০৬; ফাতাওয়া তাতারখানিয় ২/৪৮৬;
হেদাতুল্লাহ আজাদ
চাঁদপুর
󠆯 চেয়ারে বসে নামাজ আদায় করার বিধান।
১৬৪ প্রশ্ন: আমাদের মসজিদে চার জন বৃদ্ধ লোক চেয়ারে বসে নামাজ আদায় করে, কিন্তু জমিনের উপর সেজদা করে না, বরং চেয়ারে বসে সেজদা আদায় করে, এভাবে সেজদা আদায় করার মাধ্যমে নামাজ শুদ্ধ হবে কিনা?
উত্তর: ইসলামি শরিয়ামতে, ফরজ নামাজে কিয়াম (দাঁড়ানো) রুকু এবং সেজদা করা ফরজ, যে ব্যক্তি তিনটি কাজই করতে সক্ষম অথবা দাঁড়াতে না পারলেও রুকু করতে এবং জমিনে সেজদা করতে সক্ষম, তার জন্য চেয়ারে বসে নামাজ আদায় করা জায়েজ নেই। দাঁড়াতে সক্ষম হলে দাঁড়ানো এবং জমিনে সেজদা করা আবশ্যক। তবে কেউ যদি দাঁড়াতে সক্ষম হলেও রুকু সেজদা করতে অথবা জমিনে সেজদা করতে সক্ষম না হয়, অথবা জমিনে সেজদা করলে অসহনীয় কষ্ট হয়, অথবা রোগ বৃদ্ধি কিংবা আরোগ্য লাভে বিলম্বের আশঙ্কা হয়, তাহলে তার থেকে কিয়ামের আবশ্যকীয়তা রহিত হয়ে যায়। তখন জমিনে বসে কিংবা চেয়ারে বসে নামাজ আদায় করা জায়েজ। তবে জমিনে বসে নামাজ আদায় করা চেয়ারে নামাজ পড়া অপেক্ষা উত্তম।
সুতরাং প্রশ্নোল্লিখিত মুসল্লিরা যদি কোন বাস্তব গ্রহণযোগ্য ওজরের কারণে জমিনে সিজদা করতে সক্ষম না হয়ে থাকে, তাহলে চেয়ারে বসে ইশারায় নামাজ আদায় করলে শুদ্ধ হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে সেজদার ইশারায় রুকুর তুলনায় বেশি ঝুঁকতে হবে। অবশ্য জমিনে বসতে পারলে জমিনে বসে আদায় করাই উত্তম। পক্ষান্তরে যদি বাস্তবিক কোন গ্রহণযোগ্য ওজর না থাকে, বরং তারা দাঁড়াতে এবং জমিনে সেজদা করতে সক্ষম হয়, তাহলে দাঁড়িয়ে রুকু-সেজদা আদায়ের মাধ্যমেই নামাজ আদায় করতে হবে অন্যথায় নামাজ শুদ্ধ হবে না।
مختصر القدوري صـ 88
إذا تعذر على المريض القيام صلى قاعدا يركع ويسجد، فإن لم يستطيع الركوع والسجود أومأ إيماء، وجعل السجود أخفض من الركوع
-মুখতাসারুল কুদুরী ৮৮ পৃষ্ঠা; আদ্দুররুল মুখতার ২/৬৮০; আহসানুল ফাতাওয়া ৪/৫১;