জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলূম রূপগঞ্জ : পরিচিতি
শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। সমাজ গঠন ও সভ্যতা বিনির্মাণে শিক্ষার ভুমিকা ও গুরুত্ব অপরিসীম। শিক্ষা-দীক্ষায় উন্নতি সাধন ব্যতীত কোনো জাতি ঋজু হয়ে দাঁড়াতে পারে না। সফলতা ও অগ্রগামিতার পথে অগ্রসর হতে পারে না। শিক্ষার আলোহীন একটি জাতি পশ্চাতপদতা ও কুসংস্কারের চোরাবালিতে নিমজ্জিত হয়ে আপন স্বকীয়তা, সার্বভৌমত্ব ও স্বাধিকার হারিয়ে রিক্ত, সর্বস্বান্ত ও বিস্মৃত হয়ে যায়। হারিয়ে যায় কালের গর্ভে চিরতরে।
প্রিয় হাবিব মুহাম্মাদ সা্ঃ -এর ওপর কুরআন মাজিদের প্রথম আদেশ আল্লাহ তাআলা অবতীর্ণ করেছেন, পড়ো তোমার প্রভুর নামে যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন। আয়াতে দুটি বিষয়কে সমন্বিত করা হয়েছে : ১. শিক্ষা অর্জন। ২. আল্লাহ তাআলার আনুগত্য। সন্দেহ নেই, আলোচিত বিষয় দুটির সমন্বয়ে গঠিত শিক্ষাব্যবস্থাই কেবল মানবজাতিকে সঠিক ও সরল পথের দিশা দিতে সক্ষম। রবের আনুগত্য ও জ্ঞান-প্রজ্ঞার বিভায় দীপ্ত পাঠ্যক্রম ও শিক্ষা কারিকুলাম মানবগোষ্ঠীকে পৌঁছে দিতে পারে অনন্তকালীন সফলতা ও মুক্তির পথে। তাই তো, মক্কার কুরাইশ কাফেরদের তুমুল শত্রুতা ও অবর্ণনীয় নির্যাতনের মধ্যেও নবীজী সা্ঃ আরকাম বিন আবিল আরকামের বাড়িতে গড়ে তুলেছিলেন ইসলামের প্রথম নিয়মিত শিক্ষাকেন্দ্র। মদিনায় মুসলামানদের প্রথম কাফেলার সাথে প্রেরণ করেছিলেন প্রিয় সাহাবি মুসআব বিন উমাইর রা. কে শিক্ষক হিসেবে; আল্লাহ তাআলার প্রেরিত শিক্ষাক্রমের পাঠদানের জন্যে। মদিনায় হিজরতের পর মসজিদে নববি নির্মাণের পাশাপাশি গড়ে তুলেছিলেন আসহাবে সুফফার নুরানি পাঠশালা। দ্ব্যর্থহীনإِنَّ اللهَ لَمْ يَبْعَثْنِي مُعَنِّتًا، وَلَا مُتَعَنِّتًا، وَلَكِنْ بَعَثَنِي مُعَلِّمًا مُيَسِّرًا. ইসলামি শিক্ষা ও জ্ঞানচর্চার অপরিহার্যতাকে মর্মে ধারণ করেছিলেন আলোর কাফেলা সাহাবায়ে কেরাম। তাদের হৃদয় থেকে সেই অনুভব-উপলব্ধি বিস্তৃত ও সম্প্রসারিত হয়েছে প্রজন্মান্তরে। অঙ্কুরিত ও পল্লবিত হয়েছে ইসলামি জ্ঞান-বিজ্ঞানের নবতর ধারা। গড়ে উঠেছে ঐতিহাসিক ও জগদ্বিখ্যাত আদর্শ শিক্ষাকেন্দ্র। প্রায় পনেরশ বছরের এই দীর্ঘ পরিক্রমায় প্রতিটি দিন সূচিত হয়েছে ইসলামি শিক্ষার অগ্রবর্তীতা ও অনুপমত্ব। সকল প্রশংসা কেবল আল্লাহ তাআলার জন্য।
দারুল উলুম দেওবন্দ থেকে দারুল উলুম রূপগঞ্জ
ইংরেজ বেনিয়া ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারতবর্ষ দখল করে নেওয়ার পর থেকে দীর্ঘ দু’শ বছরের শোষণামলে সর্বাত্মক চেষ্টা করেছে স্থানীয় বৃহৎ ও শক্তিধর জনগোষ্ঠী মুসলমানদের সর্বৈবে নির্মূল ও নিঃস্ব করে দিতে। সহস্র রকম অত্যাচার-নিপীড়নের মুখেও মুসলিম জনগোষ্ঠীর ইস্পাতসম দৃঢ়তা তাদের বিচলিত, বিস্মিত করে। অনুসন্ধানে তারা জানতে পারে, ইসলামি আকিদা-বিশ্বাসের নিবিড় পাঠ ও শাহাদাতের তুমুল তামান্না এদের কালান্তর যাবত বানিয়ে রেখেছে অজেয় জাতি। ফলে, ইসলামি শিক্ষার বিনাশ সাধনের খায়েশে তারা ১৮৫০ সালে গড়ে তোলে ‘কলকাতা মোহামেডান কলেজ’ যা পরবর্তীতে কলকাতা আলিয়া নামে প্রসিদ্ধি লাভ করে। ইসলামি শিক্ষাকে নিয়ন্ত্রন করার লক্ষ্যে ১৮৫০ থেকে ১৯২৩ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ তিহাত্তর বছরে মোট ২৫ জন বৃটিশ খ্রিস্টানকে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ করে। ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিপ্লবে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীদের নৈতিক সমর্থনের খবর পেয়ে শিক্ষাক্রমে তারা ব্যাপক পরিবর্তন আনে এবং মাদরাসা শিক্ষাকে কার্যত ‘বৃটিশ সভ্যতা-সংস্কৃতি শিক্ষাকেন্দ্রে’ পরিণত করে। বুদ্ধিবৃত্তিক এই আগ্রাসনের প্রেক্ষিতে বাধ্য হয়ে সাহারানপুর জেলার দেওবন্দ নামক গ্রামে সাত্তা মসজিদ সংলগ্ন স্থানে ‘আকাবিরে সিত্তাহ’ নতুন ধারার একটি গণচাঁদা ভিত্তিক মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন এবং নাম রাখেন দারুল উলুম। কালক্রমে সেই মাদরাসা ‘দারুল উলুম দেওবন্দ’ নামে প্রসিদ্ধি লাভ করে এবং ভারতবর্ষে নতুন ধারার শিক্ষাবিপ্লব বিস্তারে প্রধান ভুমিকা পালন করে। এই ধারার শিক্ষাক্রম ও আদর্শের অনুসারীদের দেওবন্দি বলা হয়। বর্তমানে এই ধারার মাদরাসা ইউরোপ, আমেরিকা ও আফ্রিকার দেশগুলোতেও বেশ জনপ্রিয়।
বাংলাদেশে দেওবন্দি ধারার প্রথম মাদরাসা ‘দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম, হাটহাজারী’ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯০১ সালে। অতঃপর প্রচুর দেওবন্দি মাদরাসা দেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং ধর্মীয় শিক্ষাক্ষেত্রে শত বছর যাবত নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছে।
দারুল উলুম রূপগঞ্জের গোড়াপত্তন
অক্টোবর, ২০২১। বাংলাদেশে তখন শীতের আমেজ। চারিদিকে শুকনো পাতার মর্মর ধ্বনি। পল্লবহীন বৃক্ষরাজির মাঝে সমাগত বসন্তে সবুজ কিশলয়ে সেজে নতুন উদ্যমে জেগে ওঠার ফিসফিসানি। এমন দিনে মক্কার পবিত্র হারামে বাইতুল্লাহর ছায়ায় বসে দুজন মানুষ একমত হলেন, রব্বে কাবার সন্তুষ্টির আকাঙ্ক্ষায় দ্বীনের কালিমা বুলন্দ করার লক্ষ্যে গড়ে তুলবেন ইলমে ওহীর এক অনুপম শিক্ষাকেন্দ্র। যেখানে তৃষিত হৃদয়ে জমায়েত হবে তালিবানে ইলমের নুরানি জামাত। নিষ্ঠাবান মৌমাছির মত আহরণ করবে ঐশী ইলমের মধু। অতঃপর জগতজোড়া ছড়িয়ে পড়বে মানবতার মুক্তির দিশা নিয়ে। আলহাজ্ব জনাব নজরুল ইসলাম সাহেবের (আল্লাহ তাআলা তার সুস্থতা ও নেক হায়াতকে দীর্ঘায়িত করুন) এই গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবে বাইতুল্লাহর নুরানি প্রাঙ্গনে বসে সম্মতি প্রকাশ করেন দেশের শীর্ষস্থানীয় আলিম, উম্মাহর সতর্ক রাহবার, সালাফের যোগ্য উত্তরসূরি হযরত মাওলানা হাসান জামিল যিদা মাজদুহুম। সিদ্ধান্ত হয় উমরাহর পবিত্র সফর শেষে মাতৃভূমিতে প্রত্যাবর্তনের পর আরম্ভ করা হবে জামিয়া গড়ে তোলার কাজ।
যে ধরণের ধনাঢ্য ব্যক্তিকে ঈর্ষা করা যায় বলে হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, জনাব আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম সাহেব তেমনই একজন। আল্লাহ তাআলা সম্পদ দেওয়ার পাশাপাশি দ্বীনের কল্যানে ব্যয় করবার মত তাওফিক তাকে দান করেছেন। আল্লাহপ্রদত্ত সম্পদ দ্বীনের পথে ব্যয় করতে পারাকে তিনি সৌভাগ্য মনে করেন। ফলে, দেশের শীর্ষস্থানীয় মাদরাসাগুলো এই মহান ব্যক্তিকে দ্বীনপ্রিয় দানশীল সুজন হিসেবে চেনে। ব্যক্তিজীবনে ভীষণ শিক্ষানুরাগী মানুষটি যেমন মানবকল্যানে মেডিকেল কলেজ গড়ে তুলেছেন, দ্বীনি শিক্ষার সহযোগী হওয়ার আকাঙ্ক্ষাও লালন করতেন হৃদয়ের অলিন্দে। সম্পদ তো ছিল; অপেক্ষা ছিল যোগ্য মানুষের। শাইখুল হাদিস আল্লামা হাসান জামিল সাহেবকে পেয়ে অপেক্ষার অবসান হয়। মক্কা-মদিনার পবিত্র স্থানসমূহে রোনাজারি করে তিনি রব্বে কারিমের কাছে নিবেদন করেন ‘মনমুকুরে পুষে রাখা আকাঙ্ক্ষাটুকু যেন কবুল হয়’। যেন এই সৌভাগ্য থেকে বঞ্চিত হতে না হয়। রওজায়ে আতহারে নবীজীর পায়ের কাছে দাঁড়িয়ে রোরুদ্যমান কণ্ঠে যাচনা করেন কায়মনোবাক্যে। আল্লাহ তাআলা বান্দার আরজি কবুল করেছেন। অশ্রুজলে ধোয়া মুনাজাত তিনি কখনোই ফেরত দেন না।
মাদরাসা নিয়ে তার আবেগ, অনুরাগ ও উৎকণ্ঠা সবাইকে স্পর্শ করে। তালিবুল ইলমদের প্রতি তার ভক্তি, ভালবাসা ও স্নেহ আপ্লুত করে সুহৃদজনকে। হারামাইনের প্রতিটি হজ ও উমরাহর সফরে তিনি বাষ্পিত কণ্ঠে রব্বে কাবার কাছে জামিয়ার জন্য দুআ করেন। উস্তায-ছাত্রদের জন্য দুআ করেন। সামর্থের সর্বোচ্চ ব্যয় করে অতি দ্রুত মসজিদ ও মাদরাসা-ভবন নির্মাণের প্রচেষ্টা করেন। ছাত্রদের আবাসন স্বল্পতা হেতু থাকার কষ্ট হতে থাকলে মর্মে মর্মে ব্যথিত হন। আফসোস করে বলেন, ‘কী করে মাদরাসায় যাবো আমি? মেহমান ডেকে এনে থাকবার জায়গা দিতে পারছি না’। তীব্র অসুস্থতার মাঝেও বারবার খোঁজ নেন, ‘তালিবুল ইলমদের কষ্ট হচ্ছে না তো?’ হজের সফরে মাদরাসার নাযেমে তালিমাত মুফতি আবদুল কাইয়ুম সাহেবকে পেয়ে নবীজীর রওজায়ে আতহারে হাত ধরে টেনে নিয়ে যান। রাসুলুল্লাহ সা্ঃ-এর পায়ের কাছে দাঁড়িয়ে রোনাজারি করে মাদরাসা ও ছাত্র-উস্তাযদের জন্য কাঁদেন। সামর্থের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করেন নবীজীর উত্তরাধিকারী আলেম-তালিবুল ইলমদের সর্বোচ্চ আরামের ব্যবস্থা করার। আল্লাহ তাআলা তাকে উত্তম বদলা দান করুন। ফিরদাউসের উঁচু স্থানে নবীজীর সাচ্চা উত্তরসূরীদের প্রতিবেশী হিসেবে কবুল করুন।
উমরাহ থেকে প্রত্যাবর্তনের ছয় মাস পর ১৮ই মার্চ ২০২২ ইং তারিখে মসজিদের ভিত্তি প্রস্তরের মাধ্যমে জামিয়ার নির্মাণ কাজ শুরু। এক বছর পর ২৪শে মার্চ ২০২৩ মোতাবেক পহেলা রমজান ১৪৪৪ হিজরি, শুক্রবার থেকে শুরু হয় প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম। প্রথম বছর কেবল কিতাব বিভাগে ভর্তি গ্রহণ করা হয়। রব্বুল ইজ্জতের অপার অনুগ্রহ ও অনুপম দয়ায় অকল্পনীয়ভাবে প্রথম বছরেই ৪৪৭ জন তালিবুল ইলম ভর্তি হয়। দাওরায়ে হাদিসে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করে অর্ধ্বশত তালিবুল ইলম।
১০ই মে ২০২৩ ইং, বুধবার স্থানীয় উলামায়ে কেরাম, শুধানুধ্যায়ী ও দ্বীনদার মুসলমানদের উপস্থিতিতে এক আনন্দঘন আয়োজনের মাধ্যমে তালিবুল ইলমদের নবীনবরণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। জনাব আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম সাহেবের সভাপতিত্বে ও মুহতামিম মহোদয় শাইখ হাসান জামিল হাফিজাহুল্লাহর তত্ত্বাবধানে নবীন তালিবুল ইলমদের ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করা হয়। বাংলাদেশে কওমি মাদরাসার শতবর্ষী ইতিহাসে যা বিরলতম ও অনুপম ঘটনা। এক সপ্তাহ পর ১৭ই মে ২০২৩ নিয়মতান্ত্রিক শিক্ষাকার্যক্রম শুরু হয়। ইদাদি জামাত থেকে তাকমিল (দাওরায়ে হাদিস), উচ্চতর ইসলামি আইন গবেষণা বিভাগ (ইফতা) ও ডিপ্লোমা ইন ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ বিভাগে নিয়মিত দরস শুরু হয়।
লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
- কুরআন-সুন্নাহর আলোকে ও আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকিদা অনুসারে শিক্ষার্থীদের যোগ্যতা বিনির্মাণ, মেধা বিকাশ, উন্নত চরিত্র ও আদর্শ গঠন এবং দারুল উলুম দেওবন্দের আচরিত ও অনুসৃত পথ-পন্থা অনুকরণ করে সুন্নাতে নববির পূর্ণ অনুসরণকারী একদল যুগসচেতন, দক্ষ ও কর্মকুশলী আদর্শ নায়েবে নবি তৈরী করা।
- শিক্ষাক্ষেত্রে নবতর বিপ্লব সাধনের পাশাপাশি মুসলিম উম্মাহর ইসলাহ ও সংশোধনের জন্য সার্বিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা ও আগামীর পৃথিবী বিনির্মাণে সর্বাত্মক সচেষ্ট থাকা। সর্বোপরি, মুসলিম উম্মাহকে পথ-প্রদর্শন, সিরাতে মুস্তাকিমের প্রতি আহ্বান ও উভয় জাহানের কামিয়াবির রাজপথে তুলে আনা।
- কুফর, শিরক, বিদআত ও কুসংস্কার প্রতিরোধে বুদ্ধিবৃত্তিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা ও বলিষ্ঠ ভুমিকা রাখা। সুন্নাহর প্রদীপ্ত আলোতে ভ্রষ্টতা ও স্খলনের পঙ্কিলতাময় অন্ধকার বিদূরিত করার প্রয়াস গ্রহণ করা।
- আধুনিক যুগের জাহিলিয়াতের বিরুদ্ধে সর্বসাধারণ মুসলমানের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি, প্রতিরোধ মানসিকতা তৈরী ও ইমানবিধ্বংসী সকল মতবাদের বিরুদ্ধে দ্বীনি চেতনা জাগ্রত করা।
- সর্বোপরি, রিসালাতের মহান চার দায়িত্ব (তিলাওয়াত, তালিম, তাযকিয়া ও দাওয়াত) সুচারুরূপে পালন করা ও সর্বস্তরের জনগনের মধ্যে ইসলামি মূল্যবোধ জাগিয়ে তুলে আদর্শ ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে উল্লেখযোগ্য ভুমিকা রাখা।
বিভাগসমূহ
- নুরানি মকতব বিভাগ
সময়কাল : ৩ বছর
- হিফজুল কুরআন বিভাগ
সময়কাল : অনুর্ধ্ব ৩ বছর’
- কিতাব বিভাগ : (বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া, বাংলাদেশ ও আল-হাইয়াতুল উলয়া লিল জামিআতিল কওমিয়াহ, বাংলাদেশের সিলেবাস অনুসারে পরিচালিত)
- ইবতিদাইয়্যাহ (প্রাথমিক)
সময়কাল : ৬ বছর।
- মুতাওয়াসসিতাহ (মাধ্যমিক)
সময়কাল : ৪ বছর।
- সানুবিয়্যাহ উলয়া (উচ্চ মাধ্যমিক)
সময়কাল : ২ বছর।
- ফজিলত (স্নাতক)
সময়কাল : ২ বছর
- তাকমিল (স্নাতকোত্তর)
সময়কাল : ১ বছর
- তাখাসসুস বিভাগ :
- উচ্চতর ইসলামি আইন গবেষণা বিভাগ (আত-তাখাসসুস ফিল ফিকহিল ইসলামি)
সময়কাল : ২ বছর।
- ডিপ্লোমা ইন ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ
সময়কাল : ১ বছর
- কারিগরি শিক্ষা (কম্পিউটার, ড্রাইভিং ও সেলাই)
সময়কাল : ১ বছর
প্রাতিষ্ঠানিক অন্যান্য কর্মসূচি
ছাত্র পাঠাগার : পাঠ্যক্রমভুক্ত কিতাবাদি অধ্যয়নের পাশাপাশি তালিবুল ইলমদের শাস্ত্রীয় জ্ঞানে উৎকর্ষ অর্জন, জ্ঞানবৃক্ষের বিভিন্ন শাখায় স্বতস্ফুর্ত বিচরণ এবং চিন্তা ও মননকে অধিক পরিশীলিত ও শাণিত করার লক্ষ্যে জামিয়ার মহামূল্যবান আয়োজন। দেশ-বিদেশের স্বনামধন্য প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন ভাষায় রচিত পূর্বসূরী জ্ঞানসাধকদের রচনাসম্ভারের বিপুল সমাহার। তালিবুল ইলমদের জ্ঞানতৃষ্ণা মেটাতে বিভাগটি নিয়মিত সমৃদ্ধ করা হচ্ছে।
প্রকাশনা বিভাগ : সমৃদ্ধ, সৃজনশীল ও সুশিক্ষিত জাতি গঠনে প্রকাশনা ও রচনার ভুমিকা প্রয়োজনিয়তা ও গুরুত্ব অপরিসীম। বিষয়টি বিবেচনায় রেখে জামিয়া কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠার তৃতীয় বছর থেকে ‘আন নিদা’ নামী একটি ইলমি ও গবেষণামূলক মাসিক পত্রিকা প্রকাশের আয়োজন করেছেন। এছাড়াও বিভিন্ন ইলমি ও গবেষণামূলক গ্রন্থ ও আকাবিরের গবেষণালব্ধ রচনার অনুবাদ প্রকাশের ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করেছে।
সাংস্কৃতিক চর্চা : সাপ্তাহিক বক্তৃতা সেমিনারের মাধ্যমে তালিবুল ইলমদের মেধা বিকাশ ও সুবক্তা হিসেবে গড়ে ওঠার অনন্য আয়োজন। হামদ-নাত ও ইসলামী সংগীত চর্চার অপার সুযোগ। পাশাপাশি কবিতা আবৃত্তি, বিতর্ক প্রতিযোগিতা ইত্যাদির মাধ্যমে সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের দুয়ার উন্মুক্ত করা হয়েছে।
দেয়ালিকা, লেখালেখি প্রশিক্ষণ ও সাহিত্য আয়োজন : শাস্ত্রীয় পাঠগ্রহণের পাশাপাশি সৃজনশীলতা ও লেখক প্রতিভা বিকশিত করার লক্ষ্যে যোগ্য ও মননশীল উস্তাযের তত্ত্বাবধানে লেখালেখি প্রশিক্ষণ, নিয়মিত দেয়ালিকা প্রকাশ ও সাহিত্য চর্চার সুব্যবস্থা রয়েছে। ছাত্রদের উদ্যোগে আরবি ও বাংলা ভাষায় নিয়মিত দেয়ালিকা প্রকাশ করা হয়ে থাকে।
একনজরে জামিয়া
নাম (বাংলাতে) : জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম, রূপগঞ্জ
(আরবিতে) : الجامعة الإسلامية دار العلوم روب غنج
(ইংরেজিতে) : JAMIA ISLAMIA DARUL ULOOM RUPGANJ
প্রতিষ্ঠাতা ও মুতাওয়াল্লি : জনাব আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম সাহেব
মুহতামিম ও শাইখুল হাদিস : মাওলানা হাসান জামীল সাহেব হাফি.
প্রতিষ্ঠাকাল : ১৮ই মার্চ ২০২২ইং, শুক্রবার
প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমের সূচনা : ২৪শে মার্চ ২০২৩ মোতাবেক পহেলা রমজান ১৪৪৪ হিজরি
যোগাযোগ : মঙ্গলখালী (ওয়াটা কেমিক্যাল), মুড়াপাড়া, রূপগঞ্জ, নারয়ণগঞ্জ
মুঠোফোন: +8801985299909
ইমেইল: darululoomrupgonj@gmail.com
প্রতিষ্ঠানের অবস্থান
নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানার মুড়াপাড়া পোষ্ট অফিসের অন্তর্গত মঙ্গলখালী পূর্বপাড়ায় ওয়াটা কেমিক্যাল কোম্পানীর পিছনের (উত্তর) গেইটে। সুবিশাল প্রাঙ্গনে মনোরম পরিবেশে অত্র প্রতিষ্ঠানটি অবস্যাতায়াত
১. ঢাকা-সিলেট হাইওয়ের ভুলতা-গাউছিয়া হয়ে মুড়াপাড়া রোডে মঙ্গলখালী (ওয়াটা কেমিক্যাল কোম্পানী), রূপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ
২. ডেমরা চনপাড়ার গাজী ব্রিজ পার হয়ে মুড়াপাড়া থেকে গাউছিয়া রোডে মঙ্গলখালী (ওয়াটা কেমিক্যাল কোম্পানী), রূপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ
৩. কাঞ্চন ব্রিজ পার হয়ে রূপসী সড়ক ধরে মুড়াপাড়া থেকে গাউছিয়া রোডে মঙ্গলখালী (ওয়াটা কেমিক্যাল কোম্পানী), রূপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ