বর্ষ: ১, সংখ্যা: ৩
জিলহজ-১৪৪৬, মুহাররাম, সফর - ১৪৪৭ | জুন, জুলাই, আগস্ট - ২০২৫
সম্পাদকীয়
জীবনরবি তখন অস্তাচলগত। স্বপ্নপূরণের সম্ভাবনা ক্রমশ ক্ষীণ হয়ে আসছে। নবযৌবনে যে আকাঙ্ক্ষা হৃদয় আলোড়িত করে রেখেছিল পড়ন্ত বার্ধক্যে তা দুঃস্বপ্ন হয়ে উঠছে। না, হতাশাগ্রস্ত নন মানুষটি। মহান প্রতিপালকের ওপর অগাধ আস্থা ও বিশ্বাস তাঁর। হৃদয় তাঁর আনুগত্যে পরিপূর্ণ। একদিন আসবে সুসংবাদ। নিশ্চয়ই আসবে। ইনশাআল্লাহ।
অবশেষে ফুরলো অপেক্ষার প্রহর। ফেরেশতাদের একটি দল পৌঁছুলো সুসংবাদ নিয়ে। অনিন্দ্য সুন্দর একটি পুত্র সন্তান তাঁকে দেওয়া হবে, যিনি হবেন ধৈর্য ও সহনশীলতার মূর্ত প্রতীক। হবেন নির্বাচিত পুরুষ, মহান নবি। নাম হবে তার ইসমাঈল। আলাইহিস সালাম।
ছোট্ট ইসমাঈল তখন ছুটতে পারেন, দৌড়ুতে পারেন। বৃদ্ধ পিতার হাত ধরে ছুটোছুটি করেন। বেঁচে থাকার উৎসাহ হয়ে উঠেছিলেন বাবা ইবরাহিম আলাইহিস সালামের। এমন সময় এক রাতে এলো আরেক স্বপ্ন। রব্বে কারিমের নির্দেশ। প্রিয় সন্তানকে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য উৎসর্গ করতে হবে। ঘুম ভাঙার পর কেমন লেগেছিল নবি ইবরাহিম আলাইহিস সালামের? কেমন বোধ হচ্ছিল বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন প্রিয় সন্তানকে কুরবানি করার নির্দেশে? তিনি তো নবি ছিলেন। ছিলেন খলিলুল্লাহ। আমাদের মত সাধারণ ‘বাশার’ কী করে আন্দাজ করবে তার অনুভবের পাথার? তিনি তৈরী হলেন। সন্তানকে জানালেন। পরম সহনশীল কিশোর নবিপুত্র বিনাবাক্যে নিজেকে সমর্পণ করলেন প্রতিপালকের আদেশ ও পিতার কর্তব্যের সামনে।
সাড়ে তিন হাজার বছর বাদেও এই আখ্যান সমানভাবে চর্চিত ও অনুসৃত। এটা নিছক ঘটনা নয়, পরবর্তীদের জন্য জরুরি পথনির্দেশ। জীবন যিনি দিয়েছেন তাঁর জন্য প্রণোৎসর্গে যেন দ্বিধা না হয়। তাঁর কালিমা বুলন্দ রাখার তরে যেন সমর্পিত হয় জীবন ও সম্পদ। আনন্দ ও কৃতজ্ঞতার বিষয়, কুরবানির অমলিন স্মৃতি ধারণ করে নির্মিত হয়েছে ‘ত্রৈমাসিক আল জামিল’-এর প্রথম সংখ্যা। দেয়ালপত্রিকার জমিন ফুঁড়ে ছাপার অক্ষরে অঙ্কুরিত হয়েছে দীর্ঘ দুটি বছর জিইয়ে রাখা স্বপ্নবীজ। জিলহজের প্রথম দশকের বরকতময় সময়ে পাঠকের হাতে উঠছে একদল কিশোর-তরুণের হৃদয়জ আনন্দ-বেদনায় রাঙা প্রথম প্রয়াস। সকল প্রশংসা আল্লাহ তাআলার। সমস্ত ইবাদত ও কুরবানি, জীবন ও মরণ একমাত্র তাঁর জন্য।
জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম রূপগঞ্জের তালিবুল ইলমদের সাহিত্য চর্চার নিমিত্তে জন্ম ‘আল-জামিল’-এর। তাদের লেখাজোখা স্থান পেয়ে ম্যাগাজিনজুড়ে। আরবি ও বাংলা ভাষায় তারা লিখেছে মনের মাধুরী মিশিয়ে। কুরবানি ও ঈদুল আজহাকে ঘিরে তাদের স্মৃতি, গল্প ও অনুভব উঠে এসেছে বিস্তৃত পরিসরে; গদ্যে ও পদ্যে। দুএকটি বিশ্লেষণমূলক রচনাও যুক্ত হয়েছে তাদের হাত ধরেই। আশা রাখছি, পাঠকশ্রেনীর কাছে আদৃত হবে। প্রতি তিন মাস অন্তর নতুন ভাব ও ভাষা, চিন্তা ও অনুভব, বয়ান ও দাওয়াত নিয়ে উপস্থিত হতে পারবে নিয়মিত। সময় ও সামর্থকে বাহন করে সাহিত্যচর্চার দিগন্তে প্রদীপ্ত তারকা হয়ে টিকে থাকবে কেয়ামত অবধি। সমস্ত ক্ষমতা ও সক্ষমতা একমাত্র তাঁর পক্ষ থেকে। তাওফিকদাতা কেবল তিনি।