বর্ষ: ১, সংখ্যা: ১
রজব, শাবান, রমজান - ১৪৪৭ | ডিসেম্বর - ২০২৫, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি - ২০২৬
সম্পাদকীয় দেশব্যাপী গণতাওবা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে
সম্পাদকীয়
দেশব্যাপী গণতাওবা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে
রাজধানী ঢাকা থেকে মাত্র ত্রিশ কিলোমিটার দুরত্বে অবস্থিত নরসিংদীতে দুই সপ্তাহের মধ্যে ৬ বার ভূমিকম্প দেশের কোটি কোটি নাগরিককে সন্ত্রস্ত করে তুলেছে। গবেষকদের মতে রাজধানী ঢাকা ভুগছে মৃত্যু ঝুঁকিতে। যেকোনো সময় আরও বড় আকারের ভূকম্পন হতে পারে। পরিণতিতে মৃত্যুপুরী হয়ে উঠতে পারে তিলোত্তমা ঢাকা। ইতিপূর্বে এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখা যায়নি। জীবন-জীবিকার দায়ে রাজধানীতে বাক্সবন্দী ৩ কোটি ৬৬ লাখ মানুষ যেন ঝুলে আছে মৃত্যুকূপের ওপর।
প্রথম ভূমিকম্প আঘাত হানে গত ২১ নভেম্বর (শুক্রবার) সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে। ৫.৭ মাত্রার সেই ভূমিকম্প নাড়িয়ে দেয় পুরো দেশবাসীকে। ঝরে যায় বেশ কয়েকটি তাজা প্রাণ। এরপর আরো ৬টি ভূমিকম্প হয়েছে। ভয়ঙ্কর এই ঘটনা ঘটেছে আবুল সরকার নামী এক বাউলের আল্লাহ তাআলাকে নিয়ে কটুক্তি করার পরপর। মহান সৃষ্টিকর্তাকে নিয়ে তার কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের যেমন বিচার হওয়া দরকার ছিল, মুসলমানদের ভূখণ্ড বাংলাদেশে তা তো হয়-ই নি; উল্টো দেশের বড় বড় কয়েকটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের দেখা গেছে ইনিয়ে-বিনিয়ে সেই কাফেরের পক্ষ নিতে। তাওহিদি জনতার চাপের মুখে আবুল সরকারকে গ্রেফতার করা হলেও উল্লেখযোগ্য কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি তার বিরুদ্ধে। এমনকি ইসলামি রাজনৈতিক দলগুলোর তরফ থেকেও পাওয়া যায়নি যথাযথ প্রতিবাদ। নির্বাচনী ডামাডোলের নিচে চাপা পড়ে গেছে খোদাদ্রোহিতার এই ভয়ঙ্কর সন্ত্রাস। ধারণা করা হচ্ছে, জাতিগত এই উন্নাসিকতার ফলস্বরূপ আসমানি বিচার নেমে আসছে। স্মরণকালের ভয়াবহতম প্রাকৃতিক শাস্তির মুখোমুখী হতে যাচ্ছে পুরো জাতি।
এরসাথে যুক্ত রয়েছে সরকার ও বামদলগুলোর পুরনো পাপের ফিরিস্তি। জুলাই সনদ থেকে সুকৌশলে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাতিল করা, পতিতাদের কোটি কোটি টাকার সহায়তা প্রদান, ট্রান্সজেন্ডারদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার অপচেষ্টা, তুমুল আন্দোলনের পরও কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণা করতে গড়িমসি সমূহ সর্বনাশকে ত্বরান্বিত করেছে। সাংস্কৃতিক বৈচিত্র প্রতিষ্ঠার নামে গাজার অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে। অশ্লীলতাকে জাতীয়করণ করা হচ্ছে। এছাড়াও ইসলামি রাজনৈতিক দলগুলোর কিছু কিছু অবিবেচক নেতাকে দেখা গেছে পূজামণ্ডপ ও মন্দিরে গিয়ে শিরকের আখড়ায় বসে ইসলামি মূল্যবোধের জলাঞ্জলি দিতে। রাষ্ট্রক্ষমতা অর্জনের তাড়নায় রব্বে কারিমের সাথে, নবিয়ে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে, শরিয়তের বিধানের সাথে গোস্তাখি করেছে তারা; অথচ অনুতপ্ত হতে দেখা যায়নি যথাযথভাবে। যেনো ধ্বংসের পথে প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হয়েছে সবাই একজোট হয়ে।
সায়্যিদুনা উমর ইবনুল খাত্তাব রা. -এর শাসনকালে একবার ভূমিকম্প হয়। ইতিপূর্বে এই ধরণের ঘটনা ঘটেনি কখনো। উমর রা. সবাইকে উপস্থিত করে খুতবা দেন। তিনি বলেন, নিঃসন্দেহে এই ভূমিকম্প তোমাদের অপকর্মের কারণে (পাপের কারণে) হয়েছে। আগামীতে যদি আবারও ভূমিকম্প হয় তাহলে আমি তোমাদের মধ্যে থাকবো না। [মুসান্নাফু ইবনি আবি শাইবাহ, ২/৪৭৩]
ইবনু কায়্যিম আল-জাওযিয়াহর মতে, গুনাহের কারণেই জমিনে ভূমিকম্প ও ভূমিধ্বস হয়ে থাকে। (আলজাওয়াবুল কাফি, ১/৬৫)
নিঃসন্দেহে এসব আমাদের হাতের কামাই। দুনিয়াতে যত মুসিবত আসে সব আমাদের কৃতকর্মের ফল। খুব সামান্য শাস্তি দিয়ে রব্বে কারিম আমাদের সতর্ক করছেন। তাওবার সুযোগ দিচ্ছেন। আমাদের কর্তব্য হলো, একাকি অথবা যুথবদ্ধ হয়ে একনিষ্ঠ হৃদয়ে তাওবা করা এবং ইমানি দৃঢ়তা অর্জনে সচেষ্ট হওয়া। সমাজে আমর বিল মারুফ এবং নাহি আনিল মুনকারের ব্যাপক চর্চা করা। অশ্লীলতা ও ইসলামবৈরিতাকে প্রতিহত করা। বিশেষত, আল্লাহ, রাসুল ও ইসলামি আহকামকে নিয়ে অশোভন মন্তব্যকারীদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা। তাদের বিচারের আওতায় আনতে সরকারকে চাপ দেওয়া। অন্যথায় ভূমিকম্প, ভূমিধ্বস আমাদের শেষ করে দেবে। জাতি হিসেবে আমরা ইতিহাসের অংশ হয়ে যাবো।
সহিহ হাদিস ও আসারের আলোকে ইসরা ও মেরাজ মুফতি আবদুল কাইয়ুম
কুরআন যেন হয় আমাদের হৃদয়ের বসন্ত মুফতি মুহাম্মাদ ফয়জুল্লাহ