বর্ষ: 2025, সংখ্যা: 3
রজব, শাবান, রমজান - ১৪৪৭ | ডিসেম্বর - ২০২৫, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি - ২০২৬
জামিয়ার দিনরাত
জামিয়ার দিনরাত
০৭/০৪/১৪৪৭ হি., ০৮/১০/২০২৫ ইং, বুধবার
আজ বাদ যোহর জামিয়ার মসজিদে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী আলোচনার মজলিসের আয়োজন করা হয়। ইলমি পরিবেশ, উস্তাদদের আন্তরিক উপস্থিতি এবং ছাত্রদের মনোযোগী অংশগ্রহণে আসরটি পরিণত হয় এক স্মরণীয় ও তাৎপর্যপূর্ণ ক্ষণে।
এদিনের মূল আলোচক ছিলেন মারকাযুদ দাওয়ার মুহতারাম শিক্ষক মুফতি হুসাইন আহমদ সাহেব হাফিজাহুল্লাহ। তিনি বহু বছর ধরে কাদিয়ানি ফিতনা নিয়ে গবেষণা করে আসছেন এবং দেশের প্রখ্যাত গবেষকদের অন্যতম। তাঁর বক্তব্যের গাম্ভীর্য, যুক্তির দৃঢ়তা এবং দলিলভিত্তিক উপস্থাপনা দ্বারা পুরো মজলিস এক বিশেষ আবহে আবিষ্ট হয়ে পড়ে।
মজলিসের শুরুতেই তিনি বলেন যে, কাদিয়ানি বা আহমদিয়া সম্প্রদায় ইসলামের মূল আকিদা থেকে বিচ্যুত একটি ভ্রান্ত দল। তারা নিজেদের মুসলমান দাবি করলেও বাস্তবে ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসব্যবস্থা, বিশেষত খতমে নবুয়াত আকিদাকে বিকৃত করেছে।
তিনি কুরআনের স্পষ্ট ঘোষণা পাঠ করেন:
وَلَٰكِن رَّسُولَ اللَّهِ وَخَاتَمَ النَّبِيِّين
অর্থ: “তিনি আল্লাহর রাসুল এবং নবীদের মধ্যে শেষ নবি।”
তিনি বলেন, উম্মাহর কোনো আলেম কখনো এই আয়াতকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেননি। অথচ কাদিয়ানিরা এই সুস্পষ্ট সত্যকে অস্বীকার করে তাদের প্রবর্তক মির্জা গোলাম আহমদকে নবি প্রমাণের পাঁয়তারা চালিয়েছে। এটি কুরআন-সুন্নাহ এবং সাহাবায়ে কেরামের সর্বসম্মত আকিদার সরাসরি পরিপন্থী।
এক পর্যায়ে তিনি বলেন, কাদিয়ানিদের একটি বড় ধোঁকা হলো, তারা প্রথমে নিজেদের পরিচয় লুকিয়ে রেখে শান্তি, মানবতা ও সংস্কারের নামে সরলমনা ছাত্র ও তরুণদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করে। তাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো মানুষের অন্তর থেকে নবুয়ত ও রিসালাতের চিরস্থায়ী ধারণা উপড়ে ফেলা। পরবর্তীতে তিনি দলিলসহ কাদিয়ানি মতবাদের প্রধান ভ্রান্তিগুলো তুলে ধরেন। তিনি বলেন,
১. নবুওতের দাবি
মির্জা গোলাম আহমদ দাবি করেছে: “আল্লাহর আদেশ মোতাবেক আমি একজন নবি।”(নবুয়ত ও খেলাফত, পৃ. ৭৬)
২. মির্জা বশিরের ঘোষণা
“সমস্ত বিশ্বকে বলে দাও কাদিয়ানে একজন নবি আবির্ভূত হয়েছে। আর তিনি হচ্ছে গোলাম আহমদ কাদিয়ানি।” (নবুয়ত ও খেলাফত, পৃ. ৭৭)
৩. নিজের উপর ওহি নাযিলের দাবি
সে দাবি করে সুরা ফাতহ এর ২৯ নম্বর আয়াত ‘محمد رسول الله’ নাকি তার উপর নাযিল হয়েছে এবং এখানে ‘মুহাম্মাদ’ বলতে সে নিজেকে বুঝিয়েছে। (একটি ভুল সংশোধন, পৃ. ৫) কালিমাতুল ফসল এর একটি স্থানে বলা হয়েছে “কাদিয়ানে আবার মুহাম্মদ পুনরায় আগমন করেছেন।” (পৃ. ১৫)
৪. নাজিলকৃত কিতাবের দাবি
তার কথিত কিতাব ‘তাযকিরাহ’কে সে ‘ওহিয়ে মুকাদ্দাস’বলে দাবি করেছে। সেই কিতাবেই ৫৪৭ পৃষ্ঠায় সুরা আম্বিয়ার ১০৭ নাম্বার আয়াতের ‘রহমাতুল্লিল আলামিন’শব্দটি নিজের উপর প্রয়োগ করেছে।
৫. কালিমা বিকৃতকরণ
কালিমাতুল ফছল এর ৬৮ পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ এখানে ‘মুহাম্মাদ’দ্বারা উদ্দেশ্য মির্জা গোলাম। তিনি একের পর এক এসব মিথ্যাচার ও প্রতারণাগুলো তুলে ধরেন। তখন পুরো মজলিসে ভারী নীরবতা নেমে আসে। শেষে তিনি বলেন, “কাদিয়ানি ফিতনা পুরনো হলেও এর কার্যক্রম এখনও সক্রিয়। শিক্ষা, সামাজিক সেবা ও শান্তির বাণী ছড়ানোর নামে তারা মানুষকে ধীরে ধীরে বিভ্রান্তির দিকে টেনে নিচ্ছে। তাই উলামা, ত্বলাবা এবং সাধারণ মুসলমান সবাইকে সতর্ক থাকা জরুরি”।
তারিখ: ৩০/১১/২০২৫ ইং – ০১/১২/২০২৫ ইং
৩০ নভেম্বর ২০২৫ বাদ যোহর থেকে ১ ডিসেম্বর ইশা (রাত ৮.০০) পর্যন্ত জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম রূপগঞ্জের বার্ষিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। দুই দিনব্যাপী এ আয়োজনে মোট ১০টি ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হয়। পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে উপস্থিত ছিলেন জামিয়ার উস্তাদগণ, বিভিন্ন বিভাগের দায়িত্বশীলগণ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
প্রতিযোগিতার ইভেন্টসমূহ ছিল:
১. বাংলা বক্তৃতা
২. আরবি বক্তৃতা
৩. ইংরেজি বক্তৃতা
৪. উর্দু বক্তৃতা
৫. হিফজুল কুরআন
৬. কিরাত
৭. হামদ-নাত ও ইসলামি সংগীত
৮. বিতর্ক
৯. মুশাআরা
১০. ক্রীড়া
প্রতিটি ইভেন্টে ছাত্রদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল লক্ষণীয়। হিফজুল কুরআন ও কিরাত পর্ব অনুষ্ঠানটির অন্যতম আকর্ষণে পরিণত হয়। সকল ইভেন্টে উস্তাদগণ উপস্থিত থেকে মূল্যায়ন করেন। এছাড়াও অংশগ্রহণ করেন জামিয়ার কোম্পানির গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
পুরস্কার বিতরণী পর্ব
দ্বিতীয় দিন বাদ মাগরিব পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
এতে উপস্থিত ছিলেন জামিয়ার সম্মানিত মুহতামিম ও শাইখুল হাদিস শায়খ হাসান জামিল সাহেব হাফিজাহুল্লাহ এবং
অত্র জামিয়ার সম্মানিত মুতাওয়াল্লি আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম সাহেব।
তাঁদের হাতে পুরস্কৃত করা হয় বার্ষিক প্রতিযোগিতার বিভিন্ন বিভাগে কৃতকার্য ছাত্রদের ও দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষায় প্রতি জামাতে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারী ছাত্রদের।
অনুষ্ঠান শেষে উক্ত অনুষ্ঠানের সভাপতি আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম সাহেব ছাত্রদের উদ্দেশ্যে আবেগঘন বক্তব্য রাখেন । তিনি ছাত্রদের প্রেরণা প্রদান করেন এবং ঘোষণা করেন “কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় প্রথম থেকে পঞ্চম স্থানে কৃতকার্য ছাত্রদের উমরায় পাঠানো হবে।”
তিনি তার বক্তব্যে বলেন : আমার ভাই মাওলানা হাসান জামিল সাহেবের আহ্বানে এখানে এসে আপনারা আমাকে সম্মানিত করেছেন। আমি কল্পনাও করিনি এতো দ্রুত এই বিশাল বাগিচা ফুলে-ফলে ভরে উঠবে। আমি আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। আপনারা আমার জন্য দুআ করবেন। বিশেষত, আমার বড় ভাই, দীর্ষ দিন যাবত তিনি বিছানাগত হয়ে আছেন, তার সুস্থতার জন্য দুআ করবেন। আপনাদের লেখাপড়া ও আবাসনের জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত বন্দোবস্ত আমরা করার চেষ্টা করবো, ইনশাআল্লাহ।
অনতিদূর সময়ে জামিয়ার অধীনে কারিগরি শিক্ষা চালু করার অভিপ্রায় প্রকাশ করে তিনি বলেন, আবাসন সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারলেই আমরা ছাত্রদের জন্য কম্পিউটার ল্যাবের ব্যবস্থা করবো। একশ কম্পিউটার বিশিষ্ট ল্যাব তৈরী করা হবে। এছাড়া ড্রাইভিং ও অন্যান্য শিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। সর্বশেষ অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জামিয়ার মহাপরিচালক ও শাইখুল হাদিস শায়খ হাসান জামিল হাফিজাহুল্লাহ ছাত্রদের উদ্দেশ্যে হৃদয়গ্রাহী আলোচনা করেন। সৃষ্টির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ সম্পর্কে জ্ঞানগর্ভ আলোচনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, এই জামিয়ার পেছনে মুতাওয়াল্লি সাহেব ও তার পরিবারের অবদান অপরিসীম। তাদের কষ্টার্জিত সম্পদ কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় এখানে খরচ করছেন বিধায় আমরা নির্বিঘ্নে ইলম চর্চা করতে পারছি। সুতরাং তার ও তার পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা ও তাদের জন্য দুআ করা আমাদের কর্তব্য। সবশেষে আল্লাহ তাআলার দরবারে রোনাজারিপূর্ণ দুআর মাধ্যমে অনুষ্ঠান সমাপ্ত হয়।
ইসলামের দৃষ্টিতে নির্বাচন ও নেতৃত্ব মুফতি নুরুযযামান নাহিদ
সর্বত্র আমি যেন ফিলিস্তিনের সংকট দেখতে পাই মাওলানা আবুল হাসান আলি নদবি
এআই-এর ফাতওয়া ও শরিয়াহ বিশ্লেষণ : সম্ভাবনা ও সীমাবদ্ধতা মুফতি মাসুম বিল্লাহ