বর্ষ: 2025, সংখ্যা: 3
রজব, শাবান, রমজান - ১৪৪৭ | ডিসেম্বর - ২০২৫, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি - ২০২৬
ফিলিস্তিনি কইন্যা মাওলানা আতীক উল্লাহ
ফিলিস্তিনি কইন্যা
মাওলানা আতীক উল্লাহ
গাযায় যুদ্ধবিরতি চলছে। সম্পূর্ণ খালিহাতে দুই বছরেরও বেশি সময় কীভাবে আল্লাহর বান্দারা যুদ্ধ চালিয়ে গেলেন? কীভাবে সম্ভব হল? এখনো লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। এটা কীভাবে সম্ভব? একটা ঘটনা বলি, তাহলে গাযার মায়েরা ও মেয়েরা কেমন সেটা কিছুটা হলেও পরিষ্কার হবে। তাদের সাথে আমাদের তুলনা করে, নিজেদের অবস্থান যাচাই করা সহজ হবে।
গাযার ২০ লাখ মর্দে মুমিন পুরো মুসলিম উম্মাহর পক্ষ থেকে ফরজে কেফায়ার দায়িত্ব আদায় করছে। বাইতুল মাকদিস রক্ষা করা, উদ্ধার করার দায়িত্ব ছিল পুরো উম্মাহর। গাযার অবিশ্বাস্য আত্মত্যাগ, অবিচলতা, সাহসিকতা, অবিচল সংকল্প, পুরো উম্মাহর মাথা উঁচু করে দিয়েছে। গাযা পুরো বিশ্ব মানবতার পক্ষ থেকে মাজলুমের পক্ষে দাঁড়িয়ে আছে।
আল্লামা খলিলুর রহমান সাজ্জাদ নোমানি হাফি. নিজের জীবনের একটা চমকপ্রদ ঘটনা বলেছেন। ঘটনাটা তার জবানিতে তুলে দিচ্ছি :
‘আমি তখন মদিনা ইউনিভার্সিটিতে পড়ি। আমার সাথে এক ফিলিস্তিনি যুবকের দেখা হয়েছিল। সে এক চমকপ্রদ আর চাঞ্চল্যকর ঘটনা। কদিন পরে পরীক্ষা। আমরা পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সান্নিধ্যে চলে আসতাম। ভার্সিটির পক্ষ থেকে বাস ছিল। রিয়াজুল জান্নাহতে বসে বসে আমি কিতাব পড়তাম আর নবিজির রওজার দিকে তাকাতাম। মনে হত এই বুঝি নবিজি বেরিয়ে আসছেন। কখনো কল্পনা করতাম নবিজি আমার পড়া শুনছেন। পড়ার ফাঁকে ফাঁকে দরুদ পাঠ করতাম। নিশ্চিত থাকতাম, আমার দরুদ নবিজির কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। অন্যরকম এক অনুভুতি হত। এখনকার মতো রিয়াজুল জান্নাহতে যাওয়া এত কঠিন ছিল না।
গভীর মনোযোগে কিতাব পড়ছি। আজান শুরু হল। কিতাব বন্ধ করে আজানের জবাব দেয়া শুরু করলাম। মসজিদে নববিতে তখন জোহরের আজান ও ইকামতের মাঝে প্রায় ত্রিশ মিনিটের মতো সময় থাকত। এই সময় আমি চার রাকাত সুন্নত পড়ে একবার নবিজির রওজায়ে আতহারের জালির সাথে মুখ লাগিয়ে সালাম পেশ করি। খুব ভালো লাগে। মনে হয় নবিজি ভেতরে বসে আছেন। নবিজির ব্যাপারে আমাদের (উলামায়ে দেওবন্দ) আকীদা হল,
১. আম্বিয়ায়ে কেরাম কবরে জীবিত। দুনিয়ার মৃত্যুর পর আল্লাহ তাআলা নবিগণকে কবরে বিশেষ হায়াত দান করেন।
২. তারা কবরে নামাজ পড়েন।
২. তাদেরকে আল্লাহর পক্ষ থেকে নিয়মিত রিজিক দেয়া হয়।
তারা এটা কীভাবে করেন? সেটার পদ্ধতি আল্লাহ তাআলা ভালো জানেন। তারা কবরে হুবহু জীবিত মানুষের মতোও নন, সম্পূর্ণ মৃতের মতোও নন। কেমন, সেটা আল্লাহ তাআলা ভালো জানেন।
যখনই রওজায়ে আতহারে পেয়ারা নবিজির কাছে সালাম পেশ করার জন্য যেতাম, আগে থেকেই একান্ত খাস দিলে দোয়া করতে করতে যেতাম, হে আল্লাহ, আমাকে এমন বান্দা মিলিয়ে দিন, যিনি এমন ভক্তি, শ্রদ্ধা আর মহব্বত নিয়ে সালাম পেশ করবেন, নবিজির পুরো পুরো তাওয়াজ্জুহ (মনোযোগ) তার দিকে থাকে। রাব্বে কাবার আজীবন কুদরত ও রহমত, আমি যতবার এই দোয়া করে রওজায়ে পাকের কাছে গেছি, প্রায় প্রতিবারই তিনি আমাকে একজন আশেকে রাসুল মিলিয়ে দিয়েছেন। আমি করতাম কি, আশেকে রাসুল যখন আবেগাপ্লুত হয়ে সালাম পেশ করতেন, আমি তার ঠিক পেছনেই অবস্থান করতাম। মনে মনে দোয়া করতাম,
ইয়া আল্লাহ, আমার দৃঢ় বিশ্বাস, এই মুহূর্তে নবিজির পুরো তাওয়াজ্জুহ এই সৌভাগ্যবান মানুষটার দিকে নিবদ্ধ আছে। ইয়া আরহামার রহিমিন, আপনার পেয়ারা নবিজিকে একটু বলে দিন, এই নেককার মানুষটার পেছনে একজন গুনাহগার বান্দাও আছে। তার দিকেও যেন একটু তাওয়াজ্জুহ দেন, আমার সালামও যেন তিনি গ্রহণ করে নেন।
দুরুদুরু বক্ষে নবিজির রওজায়ে পাকের সামনে হাজির হলাম। তৃষ্ণার্ত চাতকের মতো তাকাচ্ছি, খুঁজছি সেই অচেনা, অজানা কাঙ্খিত মানুষটাকে। এই তো পেয়ে গেছি। একজন হালজমানার টগবগে, চনমনে, বিশালদেহী, সুদর্শন যুবক নবিজির রওজায়ে আতহারের ঠিক সামনে দাঁড়িয়ে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে। যুবকের চেহারা ও অবয়ব দেখে ঠিক আশেকে রাসুল মনে হচ্ছিল না। হাল ফ্যাশানের ইয়াব্বড় চুল, হাতে টাট্টু-উলকি, পোশাকও তাই। হাঁটুর কাছে ছেঁড়াজিন্স, হাতে কিসের যেন ব্যান্ড, কপালে কালো গগলস, গলায় স্বর্ণের হার। এমন যুবক নবিজির রওজার সামনে কাঁদবে, চোখে না দেখলে বিশ্বাস করতে কষ্ট হত। যুবকটা কেঁদেই চলছে। তার কান্না দেখে আমারও চোখের পানি চলে এল। সাথে সাথে আমার মাথায় এল, এই মুহূর্তে পেয়ারা নবিজির তাওয়াজ্জুহ এই যুবকের প্রতি যতটা নিবদ্ধ আছে, সম্ভবত উম্মতের আর কারো প্রতি নেই। আমি সেই নওজোয়ানের পেছনে দাঁড়িয়ে মনে মনে নবিজির সাথে কথা বলতে শুরু করলাম। সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। এভাবে প্রায় দশ-বারো মিনিট কেটে গেল। জামাতের সময় ঘনিয়ে আসছিল। মুসল্লিগণ আসতে শুরু করেছেন। আমি রিয়াজুল জান্নাহতে ফিরে এলাম। যেখানে আমার কিতাব রাখা ছিল। অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম, সেই আধুনিক যুবকও আমার পিছু পিছু আসছে। আমাকে চমকে দিয়ে ঠিক আমার পাশেই এসে বসল।
আজ আমি সুন্নত না পড়েই সালাম পেশ করতে গিয়েছিলাম। এখন সুন্নতে দাঁড়িয়ে গেলাম। যুবকও সুন্নত শুরু করল। সালাম ফেরাতেই একামত হয়ে গেল। জোহর আদায় করলাম। যুবক আমার পাশেই। বারবার আড়চোখে তার দিকে তাকাচ্ছি। বুঝতে পারছিলাম, যুবকও আমাকে দেখার চেষ্টা করছে। ভারি কৌতুহল হচ্ছিল। দুই রাকাত সুন্নত পড়ে কিতাব খুলে বসলাম। যুবক এবার আমার দিকে ফিরে সালাম দিল। কুশল বিনিময় হল। প্রাথমিক পরিচয়পর্ব শেষ হল। যুবক বলল,
-আমার বাড়ি ফিলিস্তিনে। আমি ডিফেন্স কলেজের স্টুডেন্ট। অতি গুরুত্বপুর্ণ একটি বিষয়ের ফয়সালার জন্য উমরায় এসেছি। ঠিক ফয়সালা না বলে, প্রশ্নের উত্তরের জন্য এসেছি, বললে ঠিক বলা হবে। আমি একটা দোয়া করার জন্য এসেছি। আমার একান্ত ইচ্ছা, সেই দোয়াটার কথা আমি আপনাকে বলি।
-জি, জরুর, ইরশাদ।
যুবক মুখে কিছু না বলে, আমার হাতে খামবদ্ধ একটা চিঠি তুলে দিল। আমাকে পড়ার অনুরোধ করল। লেফাফা খুলে দেখলাম চিঠিটা এক ফিলিস্তিনি কন্যার। লিখেছে এই যুবককে উদ্দেশ্য করে। গভীর মনোযোগে চিঠিটা পড়লাম। চিঠি পড়ে বুঝলাম, কিছুদিন আগে এই যুবকের সাথে সেই আরবকন্যার বিয়ে ঠিক হয়েছে। মেয়েটা লিখেছে,
‘আমরা দুজন এখনো শরিয়াহসম্মত স্বামী-স্ত্রী হইনি। তাই প্রয়োজনের বেশি কথা বলা হারাম। আমাদের প্রয়োজনীয় কথাবার্তা আগেই হয়ে গিয়েছে। এখন জরুরি এক প্রয়োজনে চিঠিটা লিখতে হচ্ছে। আমার আব্বু-আম্মুর সাথে পরামর্শ করে, তাদের মাধ্যমেই চিঠিটা আপনার কাছে পাঠাচ্ছি। আমি একটা বিষয়ে আপনার পরামর্শ চাচ্ছিলাম। আপনার সাথে আমার বিয়ে ঠিক হয়েছে। আপনার মতো মানুষ আমার স্বামী হবেন, এ আমার পরম সৌভাগ্য। এই রিশতা নিয়ে আমি অত্যন্ত সুখী ও আনন্দিত ছিলাম। কয়েকদিন আগে, আমাদের কলেজে একটা ঘটনা ঘটেছে। ইসরায়েলবিরোধী একটি গোপন মিশনে আমাদের কলেজ কর্তৃপক্ষ চারটি মেয়ে চেয়েছে। আমি প্রস্তাবটি শোনার সাথে সাথেই গ্রহণ করেছি। এটি একটি সুসাইডাল/ইস্তেশহাদি মিশন। একটু পর আমার মনে হয়েছে, আমার তো আপনার সাথে বিয়ের কথাবার্তা চুড়ান্ত হয়ে আছে। আমি এখন আপনার সাথে একপ্রকার ওয়াদাবদ্ধ। আমি আপনার আমানত। আমি নিজের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ব্যাপারে আপনারও মতামতও জরুরি। শরিয়ত তাই বলে। আপনি কি মেহেরবানি করে আমাকে ওয়াদা থেকে মুক্তি দিতে পারবেন? আপনি আমার চেয়েও অনেক ভালো মেয়ে পেয়ে যাবেন ইন শা আল্লাহ। আমি দোয়া করছি। আপনি আমাকে শহীদ হওয়ার অনুমতি দিলে বড়ই কৃতজ্ঞ থাকব। আপনার এহসান আমি শাহাদাতের আগমুহূর্ত পযন্ত মনে রাখব। আপনার জন্য দোয়া করে যাবো। ইন শা আল্লাহ। আমি বড় গুনাহগার, এই জীবন খুব বেশি রাব্বুল আলামীনের এবাদত-বন্দেগী করতে পারিনি। রাব্বে কারীম যদি শাহাদাত নসীব করেন, তাহলে এই উসিলায় হয়তো গুনাহ মাফ হয়ে যাবে, জান্নাত লাভ হবে।
যুবক বললেন, আমাদের কলেজ থেকে একটি টিম ইউরোপ যাচ্ছিল বিশেষ একটি বিষয়ে উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্য। আমার নামও সেই টিমে ছিল। চিঠিটা পাওয়ামাত্রই আমি ব্যক্তিগত সমস্যার কথা বলে টিম থেকে নাম কাটিয়ে নিয়েছি। কালবিলম্ব না করে ওমরার জন্য চলে এসেছি। এই চিন্তা করে ওমরায় এসেছি, আমি এই মহান চিঠির কী জবাব দিব? আমার মন কিছুতেই এমন শানদার মেয়েকে হাতছাড়া করতে চাচ্ছিল না। একটি চিঠির বদৌলতে মেয়েটা আমার কাছে অসাধারণ হয়ে উঠেছিল। নিজেকে তার সামনে তুচ্ছ থেকে তুচ্ছতর মনে হচ্ছিল। আল্লাহ তাআলা সেই সাহাবাযুগের একটি মেয়েকে আমার ঘরে মেহমান হিসেবে পাঠাচ্ছেন, একথা কল্পনা করতেই আমার শরীরের রোম দাঁড়িয়ে যাচ্ছিল। এই মহীয়সী কন্যাকে হারাতে হবে ভেবে ভীষণ মুষড়ে পড়ছিলাম। আমি তার নখের যুগ্যিও নই, এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। এ জন্যই কি আল্লাহ তাআলা আমার মতো অপাত্রের হাতে পড়ার আগেই তাকে জান্নাতে উঠিয়ে নেয়ার বন্দোবস্ত করছেন?
এমন একটা রত্ন থেকে নিজেকে কীভাবে বঞ্চিত করি? আবার চিন্তা মাথায় এল, নিজের খাহেশ পূরণ করতে গিয়ে যদি তাকে শাহাদাত থেকে বঞ্চিত করি, তাহলে কাল কেয়ামতে যদি রহমান-রহিম ধরেন, তুমি নিজের চাহিদা পূরণের জন্য উম্মাহর এক বীরকন্যাকে শাহাদাত থেকে বঞ্চিত করলে? আমার নেকবান্দীর জযবায়ে শাহাদাতকে অবমূল্যায়ন করলে? আমার কোনো জবাব থাকবে?
এমন একটি মেয়ের জন্য জান-জীবন সব কুরবার করা যায়। আমি কী করব? কী জবাব দিব সেই মহান নারীকে? এর উত্তর খোঁজার জন্য এখানে এসেছি। নবিজির কাছে বলেছি, ইয়া রাসুলাল্লাহ, আপনার কাছে আমি এর জবাব চাই। ইয়া আল্লাহ, নবিজির মযাদায় উসিলায় আমাকে জবাবের ব্যবস্থা করে দিন।
দোয়া শেষ করে পেছন ফিরতেই আপনার দিকে চোখ পড়ল। আমার মনে হল, আল্লাহ তাআলা আপনার মাধ্যমে আমার প্রশ্নের উত্তর মিলিয়ে দিবেন।
যুবকের কথা শুনে, আমার হাউমাউ করে কান্না এল। ইয়া আল্লাহ, আমার মতো নাখান্দা, নাচীজকে এই যুবকের কাজে জড়িয়েছেন। সুবহানাল্লাহ, আলহামাদুলিল্লাহ। আমি চিঠিটা চোখে লাগালাম, মাথার ওপর রাখলাম। যুবককে জড়িয়ে ধরে পরম আবেগে হু হু করে কাঁদলাম। যুবকও কাঁদল। তাকে বললাম,
-আহ, কী সৌভাগ্য তোমার।
আমার মনে হল, আমাদের দেশে এমন যুবক দেখলে নাক সিঁটকাতাম। গলায় স্বর্ণের হার ব্যবহার করে হারাম কাজ করছে। তাকে পাপী আখ্যা দিয়ে এড়িয়ে যেতাম। আমরা কল্পনাও করতে পারব না, এমন অনেক যুবক-যুবতী কোনো একটা ঘটনায় এমনভাবে আল্লাহ তাআলার কাছে ফিরে আসে, আমি সারাজীবন মসজিদ-মাদরাসায় পড়ে থেকেও পারিনি। নিজের পাজামা, পাঞ্জাবী, টুপি, দাড়ি, পাগড়ি নিয়ে কখনো গর্ব করতে নেই। অন্যের দিকে অবজ্ঞার দৃষ্টিতে ভুলেও তাকাতে নেই। মুহূর্তেই অবস্থা বদলে যেতে পারে।
আমি পেরেশান। কী জবাব দিব যুবককে। কী পরামর্শ দিব? তাকে বললাম, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ব্যাপারে তুমি যেমন হয়রান, আমিও তাই। আমার ঈর্ষা হচ্ছে, তোমাদের ওখানে বর্তমানেও সাহাবাযুগের নারী জন্ম নিচ্ছে। ১৮-১৯ বছরের যুবতী, শাহাদাতের পিপাসায় বেচাইন, এর চেয়ে সুন্দর আর অপূর্ব দৃশ্য এই দুনিয়াতে আর কী হতে পারে?
সুন্নত মোতাবেক দুজনেই ইস্তেখারার নামাজ পড়লাম। দোয়া শেষ করে যুবককে পরামর্শ দিলাম। তুমি লিখে দাও,
‘তুমি ইস্তেখারা করো। তারপর তোমার মন যদি ইস্তেশহাদি মেহনতের দিকে আগ্রহী থাকে, এগিয়ে যাও। আমার জন্য দোয়া করো। রাব্বে কারীম যেন আমার জন্য খাইরের ফয়সালা করেন। আমি রওজায়ে পাকের কাছে বসে দোয়া করছি, তোমার মতো নেকবান্দীর সাথে যদি আমার দুনিয়াতে মোলাকাত নসীব না হয়, জান্নাতে যেন তোমাকেই পাই। আমি তোমার জন্য অপেক্ষা করব। ইন শা আল্লাহ।
তারপর সেই যুবককে প্রস্তাব দিলাম, দেখো আমি এখানকার ছাত্র। তুমি যদি আমার সাথে একবেলা খানা খাও, আমার ভীষণ ভালো লাগবে। তুমি নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মেহমান।
যুবককে হোস্টেলে নিয়ে এলাম। তার সাথে দীর্ঘসময় কথাবার্তা বললাম। সাধ্যমতো মেহমানদারি করলাম। তখন মোবাইল ছিল না। আমরা হোস্টেল ইনচার্জের অফিস থেকে বাড়িতে যোগাযোগ করতাম। তাকে সেই নাম্বার দিলাম। তোমার আর সেই বোনের সর্বশেষ সংবাদ মেহেরবানি করে আমাকে জানিয়ো।
দেড় কি দুই মাস পর, ফোন এল। ছুটে গেলাম অফিসে।
ওপাশ থেকে সেই ফিলিস্তিনি যুবক। সালাম দিয়েই আনন্দ-উচ্ছ্বাসে ছটফট করছিল। আল্লাহ তাআলা শুকরিয়া আদায় করে বলল,
-অবিশ্বাস্য ঘটনা ঘটেছে। আল্লাহর নেকবান্দী সফল ইস্তেশহাদী অপারেশনে শরীক হয়েছিলেন। তার বাকী তিন সাথী শহীদ হয়ে গেছেন। তিনি অক্ষত অবস্থায় ফিরে এসেছেন। গত সপ্তাহে আমাদের বিয়ে হয়েছে। সামনের রমজানে আমরা দুজন ওমরায় আসব। তখন দেখা হবে, ইন শা আল্লাহ।
গাযা কীভাবে দুই বছর খালি হাতে লড়াই করেছে?
গাযায় এমন বীরকন্যা হাজারে হাজারে।
আল্লাহ তাআলা তাদের ঈমানের বরকতে উম্মার মান-ইজ্জত রক্ষা করেছেন।
ফিলিস্তীনে এমন অসংখ্য নারী আছেন, বিয়ের ঠিক হওয়ার পর পাত্রকে ইসরায়েল গ্রেফতার করেছে। মেয়েটা আর বিয়ে করেনি। অপেক্ষা করেছেন। এমনো ঘটনা ঘটেছে, ২৭ বছর পর বিয়ে হয়েছে। এতদিন বোনটি তার বাগদত্তার জন্য প্রতীক্ষার প্রহর গুনেছেন। গাযা আমাদের গর্ব। গাযা আমাদের প্রেরণা। কুদস আমাদের আকীদা। কুদস আমাদের ঈমান। কুদস আমরা মুক্ত করবোই। ইন শা আল্লাহ।
ইসলামের দৃষ্টিতে নির্বাচন ও নেতৃত্ব মুফতি নুরুযযামান নাহিদ
সর্বত্র আমি যেন ফিলিস্তিনের সংকট দেখতে পাই মাওলানা আবুল হাসান আলি নদবি
এআই-এর ফাতওয়া ও শরিয়াহ বিশ্লেষণ : সম্ভাবনা ও সীমাবদ্ধতা মুফতি মাসুম বিল্লাহ